আজঃ শুক্রবার ● ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ● ১৪ই জুন ২০২৪ ● ৭ই জিলহজ্জ ১৪৪৫ ● সকাল ৮:৪২
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

বাঁশের সাঁকোই এলাকার মানুষের সম্বল- ব্রীজ চায় এলাকাবাসী

ফাইল ছবি

চৌগাছা প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজারাখানা গ্রামের পীর বলুহ দেওয়ানের রওজা শরীফের পূর্ব পাশে কপোতাক্ষ নদে ব্রীজ নির্মান জরুরী বলে মনে করছেন নদ পাড়ের মানুষ। এক সময়ের খেয়াঘট, পরবর্তীতে সেখানে হয় বাঁশের সাঁকো। নদের মাঝে বাঁশ পুতে সাঁকো তৈরীর কারনে বর্ষা মৌসুম এলেই স্বাভাবিক স্রোতধারা ব্যাহত হয়, সাঁকোর একপাশে পটকচুড়িতে ভরাট হয়ে যায়, নষ্ট হয় পানি। স্থানীয়রা মাঝে মধ্যে এই কচুড়িপনা পরিস্কার করলেও তা পুনরায় ভরাট হয়ে যায়। এই অবস্থায় স্থানীয়দের চলাচলের স্বার্থে সাঁকো স্থানে একটি ব্রিজ নির্মানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসি।
হাজারখানা গ্রামে পীর বলুহ দেওয়ানের রওজার পাশ দিয়ে প্রবহমান মহাকবি মাইকেল মধুসুদনের কপোতাক্ষ নদ। এলাকাবাসি জানান, নারায়নপুর ও পাতিবিলা ইউনিয়নসহ পাশ^বর্তী বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে যুগযুগ ধরে ওই স্থনে খেয়া পারাপার হতো। সময়ের ব্যবধানে সেই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়। খেয়া ঘাটের নৌকা বাদ দিয়ে স্থানীয়দের সহযোগীতায় সেখানে নির্মিত হয় বাঁশের সাঁকো। সাঁকো নির্মানের ফলে সুবিধা যতটুকু না তার চেয়ে যেন অসুবিধাই বেশি এমনটিই জানালেন স্থানীয়রা। তারা জানান, বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মানের কারনে নদের স্বাভাবিক স্রোতধারা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলে এই পরিস্থিতি ভয়ানক অবস্থা ধারন করে। এ ছাড়া নদের উত্তর দিক হতে স্রোতের সাথে যত পটকচুরী আসে তা বাঁশে বেধে জমা হতে হতে যত দুর চোখ যায় তত দুর পটকচুড়ি জমা হতে থাকে। এ ছাড়া সাঁকো নির্মানের ফলে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেটি দেখা শুনা করার নাম করে প্রত্যেকের নিকট থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন। বছরের পর বছর মানুষ এ ভাবেই নদ পারাপার হয়ে আসছেন। চলতি বছরে বিষয়টি চৌগাছা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে সেখানে পুরাতন সাঁকো ভেঙ্গে নতুন ভাবে বাঁশ আর কাঠের সমন্বয়ে মজবুত সাঁকো নির্মান করা হয়। এই সাঁকো ব্যবহারে স্থানীয়দের কোন টাকা গুনতে হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ হতে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এলাকার সব শ্রেনী পেশার মানুষ। তারা এখন বিনা টাকায় রাত দিন সময়ে অসময়ে সাঁকো পার হয়ে ছুটছেন নির্দিষ্ঠ গন্তব্যে। নদের দু’পারের মানুষ বিনা খরচে সাঁকো পার হতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে নদের সেই পুরোনো চেহারা আবারও ফুটে উঠেছে। নদের মাঝখানে ঘনঘন বাঁশ পুতার কারনে এক পাশে পটকচুরির ভাাগড় তৈরী হয়েছে, বিঘ্ন হচ্ছে নদের স্বাভাবিক স্রোতধারা। এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ওই পট পরিস্কার করলেও কয়েক দিন যেতে না যেতেই পুনরায় পট এসে আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
হাজারাখানা গ্রামের শিক্ষক আব্দুর রহমান, ব্যবসায়ী আঃ মমিন, মিঠু, সরোয়ার হোসেন, বাবলুর রহমানসহ নদের দুই পাড়ের ভুক্তভোগীরা বলেন, নতুন নির্মিত সাঁকো স্থানে একটি ব্রিজ নির্মান এখন সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে। কেননা দুই ইউনিয়নের শতশত নানা শ্রেনী পেশার মানুষ এই স্থানটি দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। কৃষক তার উৎপাদিত পন্য অনেক কষ্টে সাঁকো পার করে বাড়িতে আনেন। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা বেশ ঝুকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হয়ে থাকে। কপোতাক্ষের এই স্থানটিতে একটি ব্রিজ নির্মানে সংশ্লিষ্ঠদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসি।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন