আজঃ রবিবার ● ৮ই বৈশাখ ১৪৩১ ● ২১শে এপ্রিল ২০২৪ ● ১১ই শাওয়াল ১৪৪৫ ● বিকাল ৫:৫২
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

একের পর এক পদোন্নতি, একের পর দায়িত্ব নিয়ে রীতিমতো সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন সুদীপ বসাক

ফাইল ছবি

অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে যোগ দিয়েছিলেন সুদীপ বসাক। এর এক পর্যায়ে পান মেকানিক্যাল বিভাগের অতিরিক্ত সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব। মাঝখানে একদফা চাকরি নিয়েই শুরু হয়েছিল টানাটানি। কিন্তু আ জ ম নাছির উদ্দিন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর রাতারাতি তার ভাগ্য খুলে যায়। মাত্র ৫ বছরে একের পর এক পদোন্নতি, একের পর দায়িত্ব নিয়ে রীতিমতো সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন সুদীপ বসাক। সিটি কর্পোরেশনে তার নিজস্ব বিভাগ ছাড়াও অন্য সব বিভাগ নিয়েও চালাতেন খবরদারি। তদবির ও প্রভাব বিস্তার করে একে একে তিনি ভাগিয়ে নেন চসিকের ১১টি দায়িত্ব। জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়মেও।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের আওতাধীন গাড়ির জন্য তেল বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে সম্প্রতি। এরপর গত ৭ আগস্ট করপোরেশনের পেট্রোল পাম্পের মেশিনের মাধ্যমেও তেল কারসাজির ঘটনা নজরে আসে চসিক প্রশাসকের। এতে তেল চুরি রোধে বেসরকারি কোম্পানি থেকে ৭ দিনের তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

নতুন করে তেল বরাদ্দের দায়িত্ব দেওয়া হয় যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলী জয়সেন বড়ুয়াকে। সেখানে ওই কর্মকর্তাকে উপেক্ষা করে কৌশলে তেলের রশিদে স্বাক্ষর করা অব্যাহত রাখেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক। চসিক সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের গাড়ির তেল বরাদ্দের খাতটি নিজের জিম্মায় রাখা এবং সেখান থেকে মাসিক মাসোহারা পেতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ এখনও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের ‘স্নেহভাজন’ হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরে সুদীপ বসাক নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। এ সময়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন নানা অনিয়মের— এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর এক অফিস আদেশকে অবজ্ঞা করে একতরফাভাবে সেখানে অস্থায়ীভাবে তিন মাসের জন্য ১২৯ জন অস্থায়ী কর্মচারীকে কর্মরত রেখে চসিককে বেকায়দার মুখে ঠেলে দেন এই কর্মকর্তা। প্রায় ৩ বছর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক তিনমাসের জন্য ১২৯ কর্মচারী নিয়োগ দেন চসিকে। পরে তিন মাস সময় শেষ হওয়ার পর সবাইকে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে এক অফিসের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাদ দেওয়া হলেও সেখানে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের প্রভাব কাটিয়ে একতরফাভাবে ১২৯ জন কর্মচারীকে কৌশলে বলবৎ রেখেছেন সুদীপ বসাক।

জানা গেছে, গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুদীপ বসাক ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব ও তদারকির দায়িত্বসহ মোট ১১টি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এসব দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যান্ত্রিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, একই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী, একই বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী, ভারপ্রাপ্ত পুল অফিসার, ভারপ্রাপ্ত প্রকিউরমেন্ট অফিসার, ভারপ্রাপ্ত স্টোর অফিসার, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেস্ট হাউজ (নেজারত শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা), যান্ত্রিক শাখার ভারপ্রাপ্ত অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট তদারকি কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত গার্বেজ প্ল্যান্ট তদারকি, সিএনজি প্ল্যান্ট তদারকিসহ মোট ১১টি দায়িত্বভার।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামশুদ্দোহা বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অনেকগুলো কাজ রয়েছে। সেখানে এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের নিচের পদে রয়েছেন একমাত্র নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ বসাকই। তাই তাকে দিয়ে এসব দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তার পদের সিনিয়র আর তো কেউ সেখানে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিভাগে কাজ বেশি। উনি কাজও ভাল বোঝেন। সাবেক মেয়রের আমল থেকে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করে আসছে তিনি।’

এদিকে সম্প্রতি তেল চুরি রোধে এবার চসিকের তেল কেনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। পুরনো নিয়মে চসিকের পেট্রোল পাম্প বাদ দিয়ে নতুন নিয়মে বেসরকারি পেট্রোলপাম্প হাক্কানী থেকে ওভারহোলিং ও স্টক ভেরিফিকেশনের জন্য তেল কেনা শুরু করেছে চসিক।

ফেসবুকে লাইক দিন