আজঃ শনিবার ● ২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ● ৮ই জুন ২০২৪ ● ২৯শে জিলক্বদ ১৪৪৫ ● ভোর ৫:৩২
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ভার্চুয়াল পোস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চুয়েট

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ভার্চুয়াল পোস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দল। অন্যদিকে অব্যবহৃত বাসের অভিনব পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহার দেখিয়ে রানার্সআপ হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘টিম ডিং ডিং।’

শনিবার (২৯ আগস্ট) ফেসবুক লাইভে বাংলাদেশ রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এই প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল— ‘গ্রিন টেকনোলজি’। প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০টির বেশি দল এতে রেজিস্ট্রেশন করে। গত ২২ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এতে ৮৩টি পোস্টার জমা পড়ে। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ১৩ জন বরেণ্য শিক্ষাবিদ।

প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তিন সদস্যের দলে ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আরাফ, নাহিদ হাসান এবং হাসিন জাওয়াদ।

চুয়েট দলের পোস্টারের বিষয় ছিল— ‘উন্নত ভবিষ্যতের জন্য টেকসই আবাসিক ভবন’। এই বিষয়টিই প্রতিযোগিতার বিচারকদের মন জয় করে নেয়। এ প্রসঙ্গে দলের অন্যতম সদস্য তানভীর আরাফ বলেন, ‘আসলে আমাদের পার্টিসিপেট করার প্রধান কারণ ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনসেপ্ট কাজে লাগিয়ে কিছু একটা করে দেখানো, যেটা সাসটেইনিবিলিটি কনসেপ্ট সাপোর্ট করবে আর ন্যাচারাল রিসোর্স ব্যবহার কমাবে। এটা ক্রিয়েট করতে গিয়ে আমরা থিউরেটিকাল কনসেপ্টগুলা নিয়ে রিসার্চ করলাম— কিভাবে ক্যালকুলেট করতে হবে বা কিভাবে স্ট্রাকচারটা ডিজাইন করতে হবে। এগুলো নিয়ে অনেক স্টাডি করতে হয়েছে। কিছুদিন আগেও যে কনসেপ্টগুলো ক্লিয়ার ছিলো না এখন তাও ক্লিয়ার হলো।’

চুয়েট দলের অন্যতম এই সদস্য বলেন, ‘উইন্ড টার্বাইন, রুফ গ্রিনহাউজ আর বিল্ডিং— সম্পূর্ণ আমাদের ডিজাইন করা ক্যাড আর স্কেচআপ ব্যবহার করে। এটা করতে গিয়েও ডিজাইনিং আর মডেলিং নিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়। যেটা সাধারণত কোনো না কোনো কারণে করা হয় না। কিন্তু হঠাৎ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সোসাইটির পোস্টার কম্পিটিশন দেখে মনে হলো— আমাদের সাসটেইনেবল কনসেপ্টটা এখানে কাজে লাগালে কেমন হয়? আমরা তিনজন লেগে রইলাম। টানা কাজ করলাম। মোটামুটি ক্যালকুলেটেড একটা রিসার্চ করার চেষ্টা করলাম।’

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে তানভীর আরাফ বলেন, ‘আসলে এই কাজগুলোতে যেমন ইফোর্ট লাগে, তেমন এপ্রিসিয়েশন সবসময় পাওয়াই যায় না বলা চলে। এক স্যার বলেছিলেন সাকিব আল হাসান চার ছক্কা মারলে সে যে পরিমাণ এপ্রিসিয়েশন পায়, তা একজন রিসার্চার প্রায় সারাজীবন ঘেটেও কেবলমাত্র প্ল্যাটফর্মের অভাবে পায় না। পেলেও তখন তা উপভোগ করার মত সুযোগ বা সময় থাকে না। সাকিব আল হাসানের মত ছক্কা মারিনি তো কী হয়েছে, পুরস্কারটা পাওয়ার পরে নিজেকে বা নিজের টিমের আসলে ওই একই ধরনের ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতাই হলো একটা!’

এদিকে অব্যবহৃত বাসের অভিনব পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহার দেখিয়ে ভার্চুয়াল পোস্টার প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) দল ‘টিম ডিং ডিং।’ শাবির তিন সদস্যের দলে ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা আনান প্রভা, যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়ান আল ইসলাম রেশাদ।

শাবি দলের পোস্টারের নাম ছিল ‘প্যারাডাইম অব রিজেনারেশন’— যেখানে পড়ে থাকা অব্যবহৃত বাসের অভিনব পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহার দেখানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিত্যক্ত জিনিস পুনর্ব্যবহারের (রিসাইকেল) মাধ্যমে নতুনভাবে তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে গৃহহীন অসহায় মানুষসহ অনেকেই উপকৃত হবে। এমন ধারণা থেকে এ পোস্টার ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানান শাবির দলনেতা মাইশা আনান প্রভা।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন