আজঃ শনিবার ● ২৯শে আষাঢ় ১৪৩১ ● ১৩ই জুলাই ২০২৪ ● ৬ই মুহাররম ১৪৪৬ ● সকাল ১১:৫৪
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

চৌগাছায় বাজার ও রাস্তা থেকে রাজাকারের পিতার নাম বাতিলে এবার  মুক্তিযোদ্ধাদের গণস্বাক্ষরকৃত আবেদন

ফাইল ছবি

চৌগাছা প্রতিনি্ধিঃ যশোরের চৌগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের করা ৮ নম্বর তালিকাভুক্ত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অস্ত্রধারী রাজাকার মুজাহিদ আলীর পিতা ও পিস কমিটির সদস্য আহমদ আলীর নামে বাজার ও সড়কের নাম সরানোর দাবিতে এবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গণস্বাক্ষরকৃত লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও প্রস্তাবিত কড়ইতলা মুক্তিযোদ্ধা নগর বাজারের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত হয়ে উপজেলার ৫১ জন মুক্তিযোদ্ধার গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন পত্র জমা দেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও উদীচী চৌগাছা উপজেলা কমিটির আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সালামের নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. নুর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ নেতা রবিউল ইসলাম, আরজান আলী, আব্দুস সামাদ, আমিরুল ইসলাম, মোস্তফা জামান, মোসলেম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেনসহ মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ এবং কড়ইতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফারুক হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ, সোহাগ হোসেন, হযরত আলী, ইমদাদুল, আব্দুল কাদের, খোদাবক্সসহ ব্যবসায়ী ও দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামবাসি।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, ‘আমরা চৌগাছা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ করছি যে, মহান স্বাধীনতার যুদ্ধের প্রবেশদ্বার এবং প্রথম মুক্ত এলকা চৌগাছা-যশোর সড়কের কড়ইতলা নামক স্থানকে ‘অহমদ নগর’ নামকরণ এবং কড়ইতলা থেকে দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রাম পর্যন্ত ১ কিলোমিটার পাকা সড়কের নাম এম আহমদ আলী সড়কে নামকরণ করে সেখানে বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের নামে নাম ফলক স্থাপন করা হয়েছে। আমরা আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এম আহমদ আলীর ছেলে এম মুজাহিদ আলী ১৯৭১ সালে পাকিস্থানী বাহিনীর দোসর সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীর একজন সদস্য ছিল। এম আহমদ আলী একজন সচেতন নাগরিক হওয়া সত্বেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান না করে পাকিস্থানীদের পক্ষে ছিলেন। তার প্রমান স্বরূপ তার পুত্র মুজাহিদ আলীকে রাজাকারে পাঠিয়েছিলেন এবং তার অন্য দুজন পুত্র যারা মুক্তিযুদ্ধে যাবার উপযুক্ত ছিল তাদেরকেও তিনি পাকিস্থানীদের পক্ষে অবস্থান নিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাছাড়া অদ্যবধি তার পরিবারের কোন সদস্যও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এমন প্রমান নেই। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা ক্ষোভের সঞ্চার হওয়াতে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যা আপনি অবগত আছেন। আমরা এই নামকরনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমতাবস্থায় চৌগাছার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও স্থানীয় জনগনের মানসিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির সন্তোষজনক সমাধানের আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো এবং স্থানীয় জনসাধারণের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে আহমদনগর নামকরণ বাতিলপূর্বক স্থানটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা নগর’ নামকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আবারও অনুরোধ করা হলো। আবেদনের অনুলিপি যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকেও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুস সালাম।

লিখিত গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনপত্র দেয়ার সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, এদেশের মাটি মুুক্তিযোদ্ধাদের গায়ের রক্ত ও মাংশ দিয়ে গড়া। এই মাটিতে কিভাবে কোন রাজাকারের পিতা এবং পিস কমিটির সদস্যের নামে কোন স্থান বা সড়কের নামকরণ করা হয় এটা আমাদের বোধগম্য নয়। এটা কখনই আমরা বরদাস্ত করব না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীর দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করছি। রাজাকারের পিতা ও পিস কমিটির সদস্য আহমদ আলীর নাম ওই স্থাপনা থেকে বাতিল না করা পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় স্থানীয়দের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এসময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন বিষয়েও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এনামুল হক আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এরআগে গত ১৮ আগস্ট কড়ইতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে চৌগাছা শহরের মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য মোড়ে মানবন্ধন করে কড়ইতলা বাজারের নাম হতে তালিকাভুক্ত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অস্ত্রধারী রাজাকার মুজাহিদ আলীর বাবা ও পিস কমিটির সদস্য আহামদ আলীর নামে সাইনবোর্ড লাগানো ‘আহমদ নগর’ নাম বাতিলের দাবিতে এবং ওই বাজারের নাম ‘কড়ইতলা মুক্তিযোদ্ধা নগর’ করার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।  
মুবার্তা/এস/ই/

ফেসবুকে লাইক দিন