আজঃ রবিবার ● ২রা আষাঢ় ১৪৩১ ● ১৬ই জুন ২০২৪ ● ৯ই জিলহজ্জ ১৪৪৫ ● বিকাল ৪:২৩
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

চলতি বছর বলুহ মেলা বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনেরা

ফাইল ছবি

  • চৌগাছা প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছার “বলুর মেলা” (চলতি বছর) বন্ধ রাখতে সরকারিভাবে অনুমতি না দেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন উপজেলার বিশিষ্ট জনেরা।

সারা বিশ্বে করোনা মহামারি থেকে বাচতে একের পর এক স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিভিন্নদেশে সরকারি নির্দেশ জারি করা হচ্ছে। আমাদেও দেশেও এই করোনা মহামারি থেকে সরকার সর্বদা স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিভিন্নভাবে উৎসায়িত করার পাশাপাশি বিভিন্ন নির্দেশও জারি করেছে। সেকারনেই উপজেলার লাখো জনগনের জীবন বাচাতে চলতি বছর এই মেলা বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনেরা।

প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার চৌগাছার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে ঐতিহ্যবাহি পীর বলুহ দেওয়ানের ওরসের সময় স্থানীয়রা যশোর জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমেই এই মেলার আয়োজন করে থাকেন। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহি এ মেলায় দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আসে লাখো মানুষ।

চৌগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলি এনামুল হক বলেন, করোনা থেকে বাচতে এবং সাধারন জনগনকে বাচাতে এবছর এ মেলার আয়োজন করা সমীচিন হবেনা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যে হাজারো মানুষের সমাগম হবে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে এবং মেলায় আগত প্রতিদিন হাজারো মানুষের করোনায় আক্রত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে বাচাতেই মেলা বন্ধ রাখা উচিত বলেই মনে করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.নুৎফুন্নাহার লাকি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, যে করোনা রোগের ভয়ে সরকার এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছেনা এছাড়াও সর্বত্র লোক সমাগম না করতে বার বার নির্দেশ দিচ্ছে সেখানে মেলা হওয়ার প্রশ্নই আছে না।

স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা দীর্ঘদিন ঘওে বসে আছে মেলা হলেই আর তাদেও আটকানো যাবে না। তখন এই করোনা উপজেলার সর্বত্র ভয়ঙ্করভাবে প্রভাব বিস্তার করবে। যার ফলে হাজার মানুষের প্রানহানী ঘটতে পারে তখন এই দায়দায়িত্ব কে নেবে?? উপজেলা পরিষদেও ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, যে করোনার ভয়ে ঈদের জামাত এবং দূর্গা পূজার মতো ধর্মীয় উৎসব পালনেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আছে সেখানে মেলা করার বিপক্ষে প্রয়োজন হলে আমরা মানব বন্ধন করবো। উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড.মোস্তানিছুর রহমান বলেন, সরকার অনুমতি দিলেই তবে মেলা হওয়া না হওয়ার প্রশ্ন। তবে করোনা মহামারির কথাটা মাথায় রেখেই সরকারি অনুমতি নির্ভর করে বলেই মনে করেন তিনি।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, সরকারিভাবে অনুমতি পেলেই মেলা হবে। তার আগে মেলা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন মুকুল বলেন, আমি চাইনা আমার ইউনিয়নসহ উপজেলাবাসি করোনা রোগে আক্রান্ত হোক। তারপরেও এটা জেলা প্রশাসকের ব্যাপার। তিনি অনুমতি দিলে মেলা হবে নতুবা হবেনা।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন