আজঃ রবিবার ● ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ২৯শে নভেম্বর ২০২০ ● ১৩ই রবিউস-সানি ১৪৪২ ● সন্ধ্যা ৬:৪০
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

মৃত্যুদন্ড, বেত্রাঘাত ও হাত কাটার মত অমানবিক সাজা তখন সমাজে চালু ছিল

ফাইল ছবি

সাজেদ রহমানঃ কোম্পানি আমলের শুরু থেকে তিন দশক বিচারের দায়িত্ব পালন করতেন দেওয়ান ও দারোগারা। মৃত্যুদন্ড, বেত্রাঘাত ও হাত কাটার মত অমানবিক সাজা তখন সমাজে চালু ছিল।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজের আসনে আসনে আসনে যশোরে আসেন মিঃ ট্রিলম্যান হেঙ্কেল। সময় ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে। জেলার প্রধান নির্বাহী হয়েও, এ ব্যাপারে তাঁর করনীয় কিছুই ছিল না। বিচার বিভাগের ইতিহাসের সাথে পরিচিত ব্যক্তিরা জানেন, কোম্পানি আমলে একই অপরাধে প্রবাসী ইংরেজ ও বাঙালির বিচার হতো দু-নিয়মে। ইতিহাসের উদাহরণ দিয়ে বলা যায় ১৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে কোম্পানির পক্ষে জেলাধিপতি যখন যশোর জেলার দায়িত্ব গ্রহন করেন, তখন জেলে বিরাধীন বন্দীর সংখ্যা ছিল ৩০০ জন।

এদের মধ্যে ১০০ জনকে জেলে রাখার কোন কারণ নথিপত্রে ছিল না। উচ্চারিত হলো-‘এ পৃথিবী মুষ্টিমেয় লোকের জন্য হতে পারে না।’ মিঃ লর্ড কর্ণওয়ালিশ ও মিঃ ওয়ারের্ণ হেস্টিং চালু প্রশাসনের সংস্কার করে, বিচার ও প্রশাসন বিভাগকে পৃথক করে এবং আইনের আওতায় অপরাধীকে সোপর্দ করার ব্যবস্থা করে। অষ্টদশ শতকের নয়ের দশকের প্রথম দিকে এই যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে।
যশোর আইনজীবী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু যশোর জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব পালন করেন আরও আগে থেকে অনেকে। ইংরেজ শাসনামলে অনেকে জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সবার নাম সংরক্ষিত নেই কোথাও। ১৭৯৩ সাল থেকে সংরক্ষিত আছে কিছু। যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা হলেন-
১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ পার, ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ বুবরোজ, ১৭৯৫ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ হেসেলরিজ, ১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ মেভিল। এরপর অনেক বছরের ইতিহাস পাওয়া যায়নি। ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ বেনথল, ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ ডব্লই এস সিটনকার, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ চারনেস একটবেলই, ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এফ বি সিমসন, ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এস বি নকট, ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এইচ সি রিচার্ডসন, ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এস এইচ ম্যাকানগলিন, ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এ সি ব্রেড, ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এফ ডব্লউ ডি পিটারসন, ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এস এইচ ম্যাকানগলিন, ১৮৮৬ খ্রিব্দাব্দে মিঃ জে আর হেল্টে, ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এফ ই পরাগিটার, ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এইচ এফ মেথু, ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ ব্রজেন্দ্র কুমার শীল, ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এস এফ মাথুজ, ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ জে নকস হোয়াইট, ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ আর আর হোপ, ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এম এন হুদা, ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ ডব্লউ টিউলন, ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মিঃ এল পালিত, ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এম সি মিত্র, ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ কে এন রায়, ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এল পালিত, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এফ ডব্লই ওয়ার্ডস, ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এইচ সি সিডেল, ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ পঙ্কোজ কুমার চট্রোপাধ্যায়, ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ জে এইচ এ এব্রেল, মিঃ পি ই ফম্মেও, ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ পি ই ফমীউড, ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে শিঃ কে কে সেন, ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ বিকে বসু, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মিঃ এসসি ঘোষ,১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে শিৎ এনসি ঘোষ,….।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন