আজঃ রবিবার ● ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ২৯শে নভেম্বর ২০২০ ● ১৩ই রবিউস-সানি ১৪৪২ ● সন্ধ্যা ৭:৩৭
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

যশোরের ৮টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র চৌগাছায় মাস কলাই এর চাষ

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ যশোরের চৌগাছা উপজেলার দু’একটি ইউনিয়ন ব্যাতিত সকল ইউনিয়নে কলাই চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন হবে বলে মনে করছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে রেকর্ড পরিমান কলাই চাষ হয়েছে অত্র উপজেলাতে। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা কলাই চাষে মনোযোগী হয়ে উঠেছে। এ বছর উপজেলার ২৪০ হেক্টর জমিতে মুগ ও ৩১০ হেক্টর জমিতে মাস কলাই চাষ হয়েছে।

যশোরের ৮টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র চৌগাছায় মাস কলাই এর চাষ হয়েছে। উপজেলার স্বরুপদাহ, নারায়নপুর, সুখপুকুরিয়া, হাকিমপুর, জগদীশপুর, পাতিবিলা, ফুলসারা ও সিংহঝুলী ইউনিয়ন গুলোতে কলাই চাষ বেশি লক্ষ করা গেছে। মাটির প্রকার ভেদে এ অঞ্চলে মাস কলাই বারী-৩ এবং মুগ কলাই বারী ৩ ও ৪ জাতের চাষ বেশি হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের কদমতলা ও মাধবপুর গ্রামের মাঠে যেয়ে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা জমিতে কলাই চাষ হয়েছে। কলাই ক্ষেত পরিচর্জা ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক কাজল হোসেন।

তিনি বলেন, কলাই চাষে তুলনা মুলক পরিশ্রম কম, লাভ বেশি তাই কৃষকের কাছে কলাই চাষ বেশ জনপ্রিয়। চলতি মৌসুমে তিনি আড়াই বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছেন। বাংলা সনের ভাদ্র ও আশি^ন মাসে জমি প্রস্তত করে কলাই বীজ বপন করতে হয়। এরপর কলাই চারা বের হওয়া থেকে শুরু করে ফল আসা ও পাকা আপন গতীতে হয়। কৃষককে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয়না। তিনি বলেন, ভাল ফলন হলে ১ বিঘা জমিতে ৬/৭ মন কলাই হয়, বাজার দর ভাল হলে আড়াই হতে ৩ হাজার টাকা মন বিক্রি করা যায়।

কৃষক কাজল হোসেনের মত মাধবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ ২ বিঘা, রায়হান উদ্দিন ৬ বিঘা, সহিদুল ইসলাম ২ বিঘা, তরিকুল ইসলাম দেড় বিঘা, পলাশ হোসেন ২ বিঘা, ওয়াদুদ মিয়া আড়াই বিঘা, সাইফুল ইসলাম দেড় বিঘা, মিটুল হোসেন ২ বিঘা, শরিফুল ইসলাম দেড় বিঘা, তবিবর রহমান ২ বিঘা এবং আব্দুল মমিন আড়াই বিঘা জমিতে কলাই চাষ করেছেন।

কৃষকরা জানান, কলাই গাছে ফল আসার পর বিছাপোকা ও শুটি ছিদ্রকারী পোকা দেখা দেয়। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক বিশেষ করে সিমবুস বা ডেসিস পরিমান মত পানিতে মিশিয়ে ক্ষেতে স্প্রে করলে পোকার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইচ উদ্দিন বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা মুগ কলাই এর চাষ বেশি করেন। তবে এ বছর মুগের পাশাপাশি ব্যাপক ভাবে মাস কলাই এর চাষ করা হয়েছে। কলাই চাষ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতি বছরই তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউট কর্তৃক মুগ কলাই এর একাধিক উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে বারী মুগ-২ (কান্তি), বারী মুগ-৩(প্রগতি) ও বারী মুগ-৪ (রুপসা)। তবে চৌগাছা অঞ্চলের কৃষকরা বারী মুগ-৩ ও ৪ জাত চাষ বেশি করেছেন। কৃষি অফিস উপজেলার সব কৃষককে নতুন নতুন চাষ পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন