আজঃ রবিবার ● ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ২৯শে নভেম্বর ২০২০ ● ১২ই রবিউস-সানি ১৪৪২ ● রাত ১২:৩৮
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

চাষীরা দেশি জাতের ব্রি-৪৯ ও ব্রি-৫১ জাতের ধান চাষের দিকে ঝুঁকেছেন

ফাইল ছবি

চৌগাছা প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় আগাম জাতের বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রি-৫১, ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮০, ব্রি-৮৭ রোপা আমন চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। আর দেশি ও আগাম এসব জাতের রোপা আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি বছর উপজেলায় ব্রি-৫১ এর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি অফিস প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে এসব দেশি জাতের আগাম রোপা আমন চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলাটির কৃষকরা আমনে স্বর্ণ, গুটি স্বর্ণ, প্রতীক ধানের চাষ করে আসছিলেন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষায় শক্তিশালী ও দেশি উচ্চফলনশীল এবং আগাম জাতের ধান চাষের বিষয়ে কৃষককে আকৃষ্ট করতে থাকেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি অফিসের প্রচেষ্টায় বিগত কয়েক বছরে চাষীরা দেশি জাতের ব্রি-৪৯ ও ব্রি-৫১ জাতের ধান চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর আরো কয়েকটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহনীয়, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষায় শক্তিশালী, আগাম ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষের প্রদর্শনী প্লট করা হয়। যেখানে এসব জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব প্রদর্শনী প্লটে উৎপাদিত ধান বীজ হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলেও জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৮টি প্রদর্শনী প্লটে বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮০, ব্রি-৮৭ জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনী প্লটে ১৫ জন করে কৃষাণ-কৃষাণীর ১৫ বিঘা করে এসব ধানের চাষ করা হয়েছে। এর একটি প্রদর্শনী প্লট উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে। এই প্লটে রয়েছেন ৫ কৃষাণী ও ১০ কৃষকের সমন্বয়ে একটা গ্রুপ। এখানে বিনা-৭ জাতের আগাম ফলনশীল ধানের চাষ করা হয়েছে।

রবিবার এই প্লটের একটি ক্ষেতের ধান কাটা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন।

অন্যান্যের মধ্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম, কৃষক রফিকুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ধান কেটে পরিমাপ করে দেখা যায় বিঘাপ্রতি ১৮ মণ ২৩ কেজি করে ধান উৎপাদিত হয়েছে। এসময় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন উপজেলা কৃষি অফিসের প্রেরণায় আমরা এই ধানের চাষ করে সাফল্য পেয়েছি। প্রায় ২০ দিন আগে ধান কেটে এই জমিতে রবি শষ্য চাষ করা করবো। তারপর বোরো চাষ করবো। ধানের ফলনও হয়েছে ভালো।

উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দিন বলেন, চৌগাছার বেশিরভাগ জমিতেই আমন ও বোরো চাষ করা হয়। এছাড়া বছরের অন্য সময়গুলিতে এই জমি পড়েই থাকে। সে কারণে দেশি প্রজাতির আগাম, উচ্চফলনশীল ও প্রাকৃতিক দূর্যোগসহায়ক, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধে শক্তিশালী এসব জাতের রোপা আমন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যাতে করে আমন ও বোরো চাষের মাঝখানের এই সময়টাতে কৃষক ওই জমিতে রবি শষ্যের চাষ করতে পারেন। তাছাড়া আগেই কাটা যাওয়ায় এসব জাতের ধান চাষে খরচও কম। তিনি বলেন বিনা-৭ ধান স্বর্ণ ও প্রতীকের চেয়ে ২০ দিন আগে কাটা যায়, স্বর্ণ বা প্রতীকের সমান ফলনশীল, উৎপাদন খরচ কম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এই ধানটি হেলে পড়ার সম্ভাবনা কম। বিনা-১৭ হলো সুপার রাইচ, বিনা-৭ এর চেয়েও উচ্চ ফলনশীল এবং স্বর্ণ ও প্রতীকের চেয়ে ১৫ দিন আগে কাটা যায়। তবে এই ধানটি ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলতে হয়। তা না হলে ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ব্রি-৭৫ হলো সুগন্ধি ধান। এই ধানের মাঠেও সুগন্ধ ছড়ায়। স্বর্ণ বা প্রতীকের চেয়ে ২৫/৩০ দিন আগে কাটা যায়। এর ফলন মাঝারী চিকন স্বর্ণ বা প্রতীকের সমান। আর এসব জাত গুলির মধ্যে ব্রি-৮৭ সবচেয়ে ভালো। এটা একেবারে চিকন ধান। স্বর্ণ বা প্রতীকের চেয়ে ১৩ দিন আগে কাটা যায়। এটা উচ্চফলনশীল। বিঘাপ্রতি দেশে গড়ে ২০/২২ মণ ধান উৎপাদন হয়। তবে চৌগাছার মাটি উর্বর হওয়ায় এখানে বিঘাপ্রতি ২৫ মণ ফলনও হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন আরো বলেন, চৌগাছা উপজেলাটি শতভাগ সেচের আওতায় রয়েছে। তাছাড়া এখানে প্রাকৃতিক দূর্যোগের সম্ভাবনা কম। এখানকার মাটি অন্য অনেক স্থানের চেয়ে উর্বর। একারণে দেশের গড়ের চেয়ে চৌগাছায় বেশী উৎপাদন হয়।

তিনি বলেন, আমরা এর আগে ব্রি-৫১ জাতের রোপা আমন চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করেছি। কৃষক সেটা চাষ করে স্বর্ণ ও প্রতীকের তুলনায় বেশি উৎপাদন হওয়ায় চলতি বছর উপজেলায় ২ হাজার ৩শ ৭০ হেক্টর জমিতে ব্রি-৫১ জাতের রোপা আমনের চাষ করেছেন কৃষকরা। গত বছরগুলিতে এই জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২৫ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে তাদের।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন