আজঃ বৃহস্পতিবার ● ৩ আষাঢ় ১৪২৮ ● ১৭ই জুন ২০২১ ● ৫ই জিলক্বদ ১৪৪২ ● রাত ১২:১৯
শিরোনাম

By: মুক্তি বার্তা

ঈদে দৃষ্টিনন্দন গুঠিয়া মসজিদ কমপ্লেক্সে দর্শনার্থীদের ভিড়…

ফাইল ছবি

রাহাদ সুমন, উজিরপুরের গুঠিয়া মসজিদ কমপ্লেক্স থেকে ফিরে॥
কোভিড-১৯ প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাসও টলাতে পারেনি সৌন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থীদের। পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ভয়কে জয় করে হাঁপিয়ে ওঠা জনজীবনে একটু সুখের পরশ পেতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া মসজিদ ও ঈদগাঁহ কমপ্লেক্স দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিলো। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বরিশাল শহর,বাকেরগঞ্জ,গৌরনদী,বাবুগঞ্জ,ঝালকাঠি,নলছিটি,বানারীপাড়া,উজিরপুর ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকার শিশু ও বৃদ্ধসহ নানা বয়সের কয়েকহাজার নারী-পুরুষ দৃষ্টি নন্দন এ মসজিদ ও ঈদগাঁহ কমপ্লেক্স দেখতে আসেন। এর মাঝে সকাল ৮ টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে নামাজ আদায় ও  সৌন্দর্য্য অবগাহন করতে আসা  ভ্রমণ পিপাসুদের অধিকাংশই স্বাস্থ্য বিধি না মানায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে মসজিদ দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য অনেকটা মেলার আদলে  কসমেটিক্স,খেলনা,চটপটি ও ফুসকাসহ নানা পণ্যের দোকানের পসরা বসেছিল। প্রসঙ্গত,গুঠিয়া মসজিদ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম জামে মসজিদ, যা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত। বরিশাল শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি সড়কের পাশে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে ১৪ একর জমির উপর বিশাল এই মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। গুঠিয়া মসজিদ নামে পরিচিতি পেলেও এর নাম বাইতুল আমান মসজিদ ও ঈদগাঁহ কমপ্লেক্স । অনেকের কাছে এটা সান্টুর মসজিদ নামেও পরিচিত। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওই গ্রামের  কৃতি সন্তান  দানবীরখ্যাত এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ এবং ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মাণ শুরু করেন। ২০০৬ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। গুঠিয়া মসজিদ কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে একটি মসজিদ, সুদৃশ্য মিনার, ২০ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার ঈদগাহ্ ময়দান, একটি ডাকবাংলো, এতিমখানা, গাড়ি পার্কিং, পুকুর, লেক এবং ফুল ও ফলের বাগান। মসজিদটিতে এক সঙ্গে প্রায় ১৫০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারে এবং মসজিদটির মিনারের উচ্চতা প্রায় ১৯৩ ফুট। মসজিদটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা এবং মসজিদের নির্মাণশৈলীতে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নামকরা মসজিদের ছাপ লক্ষ করা যায়। মসজিদটিতে উন্নমানের কাঁচ, ফ্রেম, এবং বোস স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে। গুঠিয়া মসজিদটির তত্ত্বাবধানে ৩০ জন কর্মচারী সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। এই মসজিদটিতে মহিলাদের পৃথক নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও মসজিদ কমপ্লেক্সে কাবা শরীফ, জমজম কূপের পানি, আরাফার ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নুর, নবীজীর জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবর স্থান, খলিফাদের কবরস্থান,  অন্যান্য বিখ্যাত মসজিদ এবং বিখ্যাত জায়গার মাটি সংরক্ষন করা আছে, যা দর্শনার্থীরা দেখতে পারেন। অনন্য এই গুঠিয়া মসজিদ দেখতে এবং নামায আদায় করতে প্রতিদিন হাজারো দর্শণার্থীর আগমন ঘটে। দেশের দূর দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীর এখানে মসজিদ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য অবগাহন করতে  আসেন। তবে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর.ঈদ-উল আজহা,পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন পার্বনে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন