আজঃ শনিবার ● ২৯শে আষাঢ় ১৪৩১ ● ১৩ই জুলাই ২০২৪ ● ৬ই মুহাররম ১৪৪৬ ● সকাল ১১:২৭
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

যশোরে নারী আন্দোলন…তৃতীয় পর্ব

সাজেদ রহমানঃ যশোরে নারী আন্দোলনে আর এক পরিচিতি মুখ অনিলা দেবী। এক সম্ভ্রান্ত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবারে অনিলা দেবীর জন্ম। পিতা কেশবলাল রায় চৌধুরী ছিলেন জেলার লব্ধপ্রতিষ্ঠ আইনজীবী। অনিলা দেবী ১৯৩২ সালে ম্যাট্রিক পাশ করার আগেই যুব সংঘের নেতা কৃষ্ণবিনোদ রায়, শান্তিময়(বাচ্চু) ঘোষ প্রমুখদের সঙ্গে পরিচয়ের সুত্রে রাজনীতিতে আগ্রহান্বিত হন। তারপর কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে পড়ার সময় সহ-পাঠিনী ও বন্ধু ছাত্র-নেত্রী মণিকুন্তলা সেনের উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের কাজে নামেন। ১৯৩৯ সালে এমএ পাশের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে দেশে গুরুতর উদ্বাস্ত সমস্যা দেখা দিলে অনিলা দেবী সমস্ত শক্তি দিয়ে ত্রাণ কাজে যোগ দেন। ১৯৪০ সালে শিক্ষকতার কাজ গ্রহণ করেন। ক্রমে শিক্ষক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট আন্দোলনে সামিল হন। ইতোমধ্যে ১৯৪৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যা হন এবং প্রতিভা ও কর্মদক্ষতার গুনে পার্টি রাজ্য কমিটিতে আসন লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে পার্টি ভাগ হলে অনিলা দেবী মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং শুরু থেকে শিক্ষকদের গণসংগঠনের মধ্যে কাজ করতে থাকেন। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্বভার বহন করেন।
উল্লেখ্য যে, ১৯৫০-এর দশক থেকে ১৯৮০’র দশক পর্যন্ত একাধিক্রমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সদস্যপদ অলঙ্কৃত করেন। ইতোমধ্যে এক পর্বে স্নাতকদের কেন্দ্র থেকে সিনেটের সদস্যা নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিত্ব করার পর স্বাস্থ্যের কারণে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। উল্লেখ করা যায় যে, উপরোক্ত কর্মধারার সুত্রে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি বহুবার শ্রীলঙ্কা, জাপান ও সোভিয়েত রাশিয়া প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন।
মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন