আজঃ শনিবার ● ৩০শে চৈত্র ১৪৩০ ● ১৩ই এপ্রিল ২০২৪ ● ২রা শাওয়াল ১৪৪৫ ● রাত ১:২৯
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

খননের বছর না যেতেই ভৈরব নদের বেহাল অবস্থা

ফাইল ছবি

যশোরের চৌগাছার উপর দিয়ে বয়ে চলা ভৈরব নদ খননের বছর যেতে না যেতেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে আবার অনেক স্থানে এলাকায় মানুষ পানি বের করতে নদের পাড় কেটে পানি বের করার ব্যবস্থা করেছেন। জনবসতি ও ফসলি জমির যে সকল স্থান দিয়ে পানি নদে পড়তো সে সব স্থান খননকৃত মাটিতে বন্ধ হওয়ায় এই পরিস্থিরি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসি।
সূত্র জানায়, চৌগাছা উপজেলার বুক চিরে দুটি নদ কপোতাক্ষ ও ভৈরব প্রবাহমান। কপোতাক্ষ নদ সুদুর চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা থেকে শুরু করে কোটচাঁদপুর উপজেলা হয়ে চৌগাছার বুক চিরে দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের তাহেরপুরের ত্রিমোহনী হতে কপোতাক্ষের একটি শাখা যা ভৈরব নদ বলে খ্যাত এসে চৌগাছা তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজের উত্তর পাশ দিয়ে পুনরায় কপোতাক্ষ নদে মিশেছে, আর একটি শাখা উপজেলার ইছাপুর, সাদিপুর, রুস্তমপুর, মাড়ুয়া, দক্ষিনসাগর ও আড়পাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। বুড়ি ভৈরব নদ এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ছিল অতি পরিচিত একটি নদ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই নদ মরা খালে পরিনত হয়। হারিয়ে যেতে বসে সব ধরনের দেশি মাছসহ হরেক রকমের পখপাখালি। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এক ধরনের অসাধু ব্যক্তি নদ দখলে মেতে উঠেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্যবার সংবাদ প্রকাশ পাই। পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের শেষের দিকে প্রায় ২শ কোটি টাকা ব্যয়ে চৌগাছার তাহেরপুর হতে যশোরের আফরা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৯৬ কিলোমিটার ভৈরব নদ খনন করেন। খননকার্য শেষ হওয়ার পর শুরু হয় বৃষ্টিপাত। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় ঝড়ের সাথে মুষলধারে বৃষ্টিতে নদের বহু স্থানের পাড় ভেঙ্গে ওই মাটি আবারও নদের সাথে মিশে গেছে। নদ পাড়ের ফসলি জমি ও বসত বাড়ির পানি বের হওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় এই পরিস্থিতি বলে এলাকাবাসি জানান। ভৈরব নদ খনন করার ফলে এখন নদের পুরো এলাকা জুড়ে পানিতে টয়টুম্বুর।

স্থানীয়রা নদের পানিতে গোসল করা, নদের পানিতে পাট জাগ দেয়াসহ সব ধরনের কাজ করছেন। এখন নদে দেখা মিলছে হরেক রকমের দেশি মাছ। নদের এই মাছ শিকারের জন্য বহু স্থানে দেয়া হয়েছে পাটাতন, যা বেআইনি বলে অনেকে মনে করছেন। গতকাল উপজেলার পুড়াহুদা, ইছাপুর, মুক্তদাহ গ্রামের নদ এলাকায় যেয়ে দেখা যায়, গ্রাম, পাড়া- মহল্লা ও মাঠের ফসলি জামির পানি নদে নামতে বেশ কিছু স্থানে ভাঙন হয়েছে। আবার অনেকে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে নদ পাড়ের মাটি কেটে পানি বের করার ব্যবস্থা করেছেন। এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নদটি খনন করার সময় সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ একটি বারের জন্যও ভাবেনি নদ পাড়ের জমে থাকা পানি কি ভাবে বের হবে। খননের সময় নদের মাটি উঠিয়ে পাড়ে জমা করে তারা চলে গেছেন। বহু এলাকা আছে যেখানে অল্প বৃষ্টি হলেই সেই বৃষ্টির পানি নদে যেয়ে পড়ে। খননের সময় নদের পাড়ে কোন ড্রেন, কালভার্ট কিংবা ব্রিজ নির্মান না করার কারনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন বর্ষা মৌসুম প্রতি দিনই অল্পস্বল্প বৃষ্টি হচ্ছে, যখনই বৃষ্টি হচ্ছে তখনই ওই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আবার কিছু কিছু এলাকায় নদের পাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় ভাঙ্গা জায়গা দিয়ে পানি বের হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খনন প্রকল্পে নদের পাড়ে ব্রিজ কালভার্ট নির্মানের কোন অফসন ছিল না। যার কারনে কোথাও ব্রিজ কালভার্ট নির্মান করা হয়নি। যে সকল এলাকায় পানি নদে নামার সমস্যা হচ্ছে ওই সব এলাকার মানুষ তাদের সুবিধার্থে সরু করে পাড় কেটে পানি বের করার ব্যবস্থা করতে পারেন অথবা আমাদেরকে জানালে আমরা যেয়ে পানি বের করার ব্যবস্থা করে দিব বলে তিনি জানান।

মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন