আজঃ শনিবার ● ২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ● ৮ই জুন ২০২৪ ● ২৯শে জিলক্বদ ১৪৪৫ ● রাত ৪:৩২
শিরোনাম

By মুক্তি বার্তা

দার্জেলিং এ যাওয়া ২০১৫- সাজেদ রহমান

ফাইল ছবি

সাজেদ রহমানঃ ২০১৫ সালের মে মাসের শেষে হঠাৎ সিদ্ধান্তে দার্জিলিং যাওয়া। সাথে বন্ধু আসানুর কবির হাসান ওরফে হাজী হাসান। বেনাপোল সীমান্ত পার হয়ে জীপ নিয়ে সরাসরি শিলিগুড়ি। জীপ আগেই বলা ছিল। চালক রাধেশ্যাম। বাড়ি বনগাঁ শহরে। পেট্রাপোল থেকে রওনা সকাল সাড়ে ১১ টা। দার্জিলিং পৌঁছালাম,পরদিন রাত ৮টা। উঠলাম হোটেল সামবালা, আগেই ঠিক করা ছিল। পরদিন সকালে হোটেলে নাস্তা সেরে বেড়িয়ে পড়লাম। গেলাম ঘুম স্টেশনে।

ঘুম স্টেশন

দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে ঘুমের অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে উচ্চতা ৭ হাজার ৪শ’ ৭ ফুট। ঘুম ভারতের উচ্চতম রেলস্টেশন। এখান থেকেই টয় ট্রেন নেমে আসে দার্জিলিং শহরের দিকে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। যদিও ট্রেনে চড়েনি।

টয় ট্রেন

“টয়” ট্রেন

টয় ট্রেনে ঘুম থেকে দার্জিলিং যেতে মাঝখানে পড়বে বাতাসিয়া লুপ, ঘুম থেকে যার দূরত্ব ১ কিলোমিটারের মতো। এখানে টয় ট্রেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। জায়গায়টি ফুলে ফুলে ভরা, মনোরমভাবে সাজানো। এখান থেকে দেখা যায় পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিং শহরটিকে বাতাসিয়া থেকে দেখতে খুব মোহময় লাগে। বাতাসিয়া লুপের কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধ স্মৃতিস্মারক। গোর্খা শহিদ বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে এটি নির্মিত হয়েছে। এক গোর্খা সৈনিকের ব্রোঞ্জ মূর্তি শোভা পাচ্ছে এখানে।

স্টেশনের বাইরের অংশ

ঘুম থেকে সড়কপথে যে কোনো যানবাহনে দার্জিলিং শহরের কেন্দ্রে বাজার এলাকায় পৌঁছতে মোটামুটি ২০-২৫ মিনিট লাগে। নানা দিকের নানা রাস্তা মিশেছে ঘুমে। হিল কার্ট রোড দার্জিলিং থেকে ঘুম ছুঁয়ে চলে গিয়েছে শিলিগুড়ি।

ঘুম স্টেশনের পাশেই দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে মিউজিয়াম। রেলের ইতিহাসে যদি আগ্রহ থাকে, অথবা যারা একটু ইতিহাস ঘাটতে পছন্দ করে, তারা অবশ্যই সেখানে যাবেন। ডিএইচআর-এর প্রাচীনতম ইঞ্জিন ‘বেবি সিভক’ তাকে মুগ্ধ করবে। রেলগাড়ির পুরোনো কলকব্জা ছাড়াও বেশ কিছু বিরল ছবি আছে এখানে। দার্জিলিং থেকে হিল কার্ট রোড দিয়ে ঘুমে ঢোকার মুখেই সামটেন চোলিং বৌদ্ধ মঠ। এটিকেও অনেকে ঘুম মঠ বলেন ঠিকই, তবে পুরোনো ঘুম মঠেও যাওয়া যায় এখান থেকে। সেই ইগা চোলিং মঠে রয়েছে মৈত্রেয় বুদ্ধের অসাধারণ সুন্দর বিগ্রহ। প্রাচীন লুপ্তপ্রায় বেশ কিছু বৌদ্ধ পুঁথি এখানে যত্ন সহকারে রক্ষিত আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈনিকদের মনুমেন্ট

সংস্কৃত সাহিত্যের তিব্বতি অনুবাদ করা পুঁথিও এই মঠে পাওয়া যায়। ইচ্ছে করলে সিঞ্চল হ্রদেও যেতে পারেন কেউ। ঘুম থেকে ৫ কিলোমিটার উঁচুতে টাইগার হিল। সূর্যোদয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বহু পর্যটক এখানে ভিড় করেন। দার্জিলিং ঘুরতে গেলে সবাই টাইগার হিলেও যেতে হয়, না হলে দার্জিলিং ঘোরা অসম্পুর্ণ থেকে যায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং মাউন্ট মাকালু দেখা যায় এখান থেকে।

মুবার্তা/এস/ই

 

ফেসবুকে লাইক দিন