আজঃ শনিবার ● ১৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ● ৩০শে মে ২০২৬ ● ১২ই জিলহজ্জ ১৪৪৭ ● সকাল ১০:২৮
শিরোনাম

By: মুক্তি বার্তা

একজন সাদা মনের মানুষ ব্যারিস্টার কাজল & আমি

ফাইল ছবি

মহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক (ব্যাক্তিগত মতামত)ঃ

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির একজন জনপ্রিয় আইনজীবী,পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রোজা করা এই মানুষটি বেশ অল্প সময়ের মধ্যেই সারাদেশের একজন নীতিবান আইনজীবী হিসাবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।আর এই জনপ্রিয়তায় তাকে আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পর পর দুই বার ব্যাপক ভোটে জয় লাভ করেন।তিনি যেখানেই থাকেন না কেন  দেশের যে কোন প্রান্তে থাকা সমিতির সদস্যদের স্বার্থে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

এইতো কয়েকদিন আগের কথা চট্টগ্রামে এক জেলা জজকে সামান্য অযুহাতে এক পথচারী যুবক ব্যাপক মারধর করেন, এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে তিনি  ঘটনাটির তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এর তিনি আগে কলেজ ছাত্র রাজিবের পা হারানো মামলায় তাকে সঠিক বিচার পেতে সকল প্রকার সহযোগিতা করেছেন।

এ ছাড়া দীর্ঘ ১৭ বছরের একটি মামলায় বাবা-মাকে সন্তান থেকে আলাদা করে দেয়, মামলাটি তিনি  সে সময় নিজ চেষ্টায় বিচারকের নজরে আনলে মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে সাড়া ফেলে। পরে অবশ্যই সেই মামলায় বাবা-মাকে মামলা থেকে রেহায় দিয়ে সন্তানের কাছে ফিরিয়ে দেয়।তাদের সেই আবেগ সারাদেশের সকল মিডিয়ায় তখন ব্যাপক ভাইরাল হয়।

গতবার সারা পৃথিবীতে কোভিট19 ব্যাপক হারে বৃদ্ধি হওয়ার ফলে বাংলাদেশের সব জেলার মতো যশোর জেলাও লকডাউন ঘোষণা করে সরকার, বেশ কয়েক দিন কঠোরভাবে লকডাউন থাকার ফলে সাধারণ মানুষ ব্যাপক বেকায়দায় পড়ে যায়,বেকায়দায় পড়ে যায় তার প্রিয় জন্মস্থান বড়খানপুরের সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ, হঠাৎ তিনি আমাকে ফোন দিয়ে বলেন গ্রামে যাদের একদম খারাপ অবস্থা তাদেরকে ১৫ দিনের প্রয়োজনীয় খাবার তাদের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসবে,তবে কারোর ছবি উঠাবে না।

গত বছর একদিন হঠাৎ করেই রাতে আমাকে তিনি ফোন দিয়ে বললেন জামাই  তোমার বিকাশে আমি দশ হাজার টাকা দিয়েছি তুমি সকলে উঠে অমুকে দিয়ে আসবে কেউ যেন না জানতে পারে শুধু বলবা কাকা আপনাকে পাঠিয়েছে।

১৫ দিন আগে তিনি শুনলাম একজনকে ডাক্তার দেখাতে বেশ কয়েক হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়েছে, সেটাও গোপনে।আমি জানি এটা একটা বিরাট মনের ব্যাপার,যা সবার দ্বারা সম্ভাব কিনা জানি না।

আর নানান মানুষের বিভিন্ন মামলা তো রয়েছেই তাও আবার মার্ডার কেচ,জমির কেচ, ভাই জামিন হচ্ছেনা,মামলা লড়াই করার পয়সা নেই,আরো নানান কিছু।

এই বছরের প্রথম সপ্তাহে মায়ের কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্য ঢাকা থেকে তিনি তার জন্মস্থান যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর গ্রামে আসেন,মায়ের কবর জিয়ারত করার সময় তার বাবা,ছোট কণ্যা,ভাগনে ও ভাইদের সাথে আমাকেও সাথে নিলেন।কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার সময় তিনি তার জন্মস্থানকে নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানান।

আমি এই সময় কাকাকে বললাম  কাকা,মাঝে মধ্যে বিভিন্ন লোকজন আমাদেরকে প্রশ্ন করে ব্যারিস্টার কাজল আসলেই যশোর সন্তান না ঝিনাইদহের, এ কথা শুনে কাকা হেসেই বললো আমি সারা দেশেরই,বিষয়টি অবশ্যই পরে বুঝতে পারলাম কথাটির অর্থ।

বাড়ি ফেরার পথে তিনি বলেই ফেলেন জামাই চলো তোমাকে আমার প্রিয় স্কুলে নিয়ে যায়, আমারা কাকার সাথে তার প্রিয় বড়খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গেলাম,এ সময় তিনি এই স্কুলের কাটানো সেই সময়কার নানান কথা তুলে ধরলেন।হঠাৎ তিনি বলেই ফেললেন জামাই চলো তোমাকে আমি আমার স্কুলের সামনে ছবি উঠাই। একজন এতো বড় মনের মানুষ  তার এই ব্যাবহার সত্যি আমাকে ব্যাপক নাড়া দেয়।তিনি আরো বলেন আমরা মানুষের প্রয়োজনে যদি এগিয়ে না আসি তবে কারা আসবে।

প্রিয় এই মানুষটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ২০২২-২৩ নির্বাচনে সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন,সবাইকে দোয়া করার জন্য অনুরোধ রইল।

মতামত প্রদানেঃ

মোঃ মহিদুল ইসলাম

চৌগাছা, যশোর।

ফেসবুকে লাইক দিন