By: মুক্তি বার্তা
শৈলকূপার শেখপাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে : হাসপাতালের দাবি এলাকাবাসীর
রানা আহম্মেদ অভি: বাণিজ্য ও শিক্ষা কেন্দ্রিক জনবহুল নগরী ঝিনাইদহের শেখপাড়া। সরকারি সকল কর আদায় সম্পন্ন হলেও, নেই চিকিৎসার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা । চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছে লোকালয়ের নাগরিকরা।
চিকিৎসা নাগরিকের একটি মৌলিক প্রয়োজন। যা একটি জনবহুল এলাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । সঠিক সময় নূন্যতম চিকিৎসায় বেঁচে যেতে পারে একটি প্রাণ। রাতে এই প্রয়োজনটির ব্যাপকভাবে অনুভব করা যায়।
হাতুড়ে চিকিৎসকদের থেকে সাধারণত প্রাথমিক সেবা পাওয়া যায়। সারাদিন লোকালয়ে তাদের আনাগোনা থাকে। সন্ধার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় তাদের কেন্দ্রগুলো। তারা নূন্যতম রক্ত আদান-প্রদানের সেবাটিতেও অদক্ষ ৷ শুধু জ্বর-ঠান্ডায় তাদের শেষ চিকিৎসা।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল হতে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শেখপাড়া। উপজেলা শৈলকূপা থেকেও যার দূরত্ব প্রায় সমান। দূরবর্তী স্থানেগুলোতে যেতে বাঁধা হয় সড়কপথ। ভাঙা রাস্তায় রোগিদের পরিস্থিতি হয় ভয়াবহ। সড়কে দিনে যানবাহন সহজলভ্য হলেও, রাতে তা পাওয়া যায় না। ছোট্ট যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছাতে পার হয়ে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে অংশ হয়েও কর দিতে হয় পৌরসভার ন্যায়৷ জমি ক্রয়-বিক্রয়ে রেজিস্ট্রি খরচ বেড়েছে কয়েকগুন ৷ সংসদ, উপজেলা এবং স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শেখপাড়া। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় প্রায় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত এখানে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্র। যা শুধু অভ্যন্তরীণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য।
এছাড়াও, এখানে রয়েছে প্রায় দশটি বহুতল মার্কেট। সর্বমোট ব্যাক্তিগত মালিকানাধীন প্রায় পঁচিশটির উপরে। দেশের অন্যতম মোল্লা এগ্রো সাইন্স নামক বড় কম্পানিসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টরি বিদ্যমান। ক্ষুদ্র প্রায় পাঁচটি মিল-কারখানাও রয়েছে ।
ইতিপূর্বে সাপের বিষে মৃত্যুবরণ করা রাসেল বিষয়টির অন্যতম উদাহরণ । মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে সঠিক চিকিৎসা অভাবে মৃত্যু হয় তার। এছাড়াও স্কুল শিক্ষার্থী হাসিব, নাজমুল একই সরণীর৷
গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, বহুদিন যাবত চিকিৎসা কেন্দ্রের অপূর্ণতায় লোকালয় ঝুঁকিতে। আমার বড় মায়ের সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলাম না। গ্রামের ছোট ভাই রাসেলেরও একই অবস্থা স্বীকার। রাতে অসুস্থ হলে কোনভাবেই জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে যাওয়া সম্ভব না। ইউনিয়ন কমপ্লেক্স দিনে খোলা থাকলেও তা দূরবর্তী এলাকায়। যেখানে নিদিষ্ট সময়ের পর চিকিৎসা সেবা অনিশ্চিত। প্রতিদিন প্রায় দশ থেকে পনের হাজার লোকের সমাগম এলাকাটি স্বাস্থ্য সেবা হতে বঞ্চিত৷
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল মোস্তফা বলেন, দিনব্যাপী এখানে জড় হয় পাশের প্রায় দশটি গ্রামের মানুষ৷ উন্নত কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এখানে নেই। বাচ্চার হটাৎ গুরুতর অসুস্থ হলে তাদের জেলা ঝিনাইদহ বা পাশের জেলা কুষ্টিয়া হাসপালের নিয়ে যেতে প্রায় এক ঘন্টা লেগে যায়। যা একজন শিশুর অসুস্থতাকে ভয়াবহ রুপ দিতে পারে। ইতিপূর্বে ক্লিনিক হয়েছিলো এক বছরের ব্যবধানে হারিয়ে গিয়েছে৷ আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই সেবাটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
শেখপাড়া নাগরিকদের এই সেবাটি নিশ্চিত হলে সুবিধা পাবে প্রায় দশটি গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় বাহিরে ছাত্রবাসে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে।এলাকার শিশু এবং গর্ভবতী নারীরা বিশেষভাবে সেবাটির সুবিধা পাবেন।
মুবার্তা/এস/ই

