আজঃ শনিবার ● ৫ই আষাঢ় ১৪২৮ ● ১৯শে জুন ২০২১ ● ৮ই জিলক্বদ ১৪৪২ ● রাত ১১:৪৮
শিরোনাম

By: মুক্তি বার্তা

নান্দাইলে গড়ে উঠেছে অর্ধশতকের উপরে গ্রামীণ হাট

ফাইল ছবি

নান্দাইল ময়মনসিংহ  :-দেশের যেখানেই রয়েছে পরিবেশবান্ধব  সমতল ভূমি সেখানেই গড়ে উঠেছে মানব বসতি।কখনও অন্য যায়গা থেকে এসে বসতি গড়েছে কোথাও আবার নিজ বংশীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গড়ে উঠেছে নতুন বসতি  আর সেখানে বসবাসরত মানবজীবের নানবিধ প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে উঠেছে হাট বাজার।
 গত দুই দশকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ৫৫ টি গ্রামীণ হাট বাজার নতুন মার্কেট।
লাভ ক্ষতির হিসেব না করেই অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে এসব দোকান  হাট বাজার ।স্থানীয় বাসিন্দারা এসব হাট বাজারের ভালো মন্দ দুটি দিকেই দেখছেন।
উপজেলার বীরবেতাগৈর ইউনিয়নে শিবপুর বাজার ও আত্নারামপুর পরিষদ বাজার নামে সৃষ্টি হয়েছে দুটি বাজার।
চরবেতাগৈর ইউনিয়নে চরশ্রীরামপুর নতুন বাজার, চরখামাটখালী (লাদেনের মোড়),আতাউরের মোড়, বেলামারির চর, আনন্দ বাজার নামে রয়েছে পাচঁটি বাজার।
মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে  টেলাটেলির বাজার, ফকিরের বাজার, সিমান্ত বাজার, মোয়াজ্জেমপুর পরিষদ বাজার  নামে  সৃষ্টি হয়েছে চারটি বাজার।
নান্দাইল সদর  ইউনিয়নে বানিজ্য বাজার,চিলার বাজার,ভাটি গুরুস্থান বাজার, মনাপাশা নতুন বাজার, জামতলা বাজার, নামে সৃষ্টি হয়েছে পাঁচটি বাজার।
চন্ডিপাশা ইউনিয়নে বনুরাকান্দা মোড়ের বাজার, আনন্দ বাজার, ছামারুল্লাহ বাজার,শান্তিনগর মোড় বাজার,খামাড়গাঁও পরিষদ বাজার নামে সৃষ্টি হয়েছে ৫টি বাজার।
গাংগাইল ইউনিয়নে পাঁছবাড়িয়া বাজার, ঘাটা চৌরাস্তা মোড়,নসরতপুর অসহায় (করোনা) বাজার নামে সৃষ্টি  হয়েছে  তিনটি বাজার।
মুসুল্লি ইউনিয়নে জনতার বাজার, লায়লার বাজার, মুসুল্লি মোড় মার্কেট, পালাহার আমলিতলা নামে সৃষ্টি  হয়েছে  চারটি বাজার।
রাজগাতি ইউনিয়নে আউটারগাতী বাজার, জামতলা বাজার, শিমুল তলা বাজার, বড়াইল বাজার নামে সৃষ্টি হয়েছে চারটি বাজার।
সিংরইল ইউনিয়নে ফকিরের বাজার, দিলালপুর বাজার,ত্রিমুনি বাজার,রতনের বাজার, বন্ধু  বাজার নামে সৃষ্টি হয়েছে পাঁচটি বাজার।
আচারগাঁও ইউনিয়নে সিংদই খালপাড় বাজার, কলেজগেইট বাজার,টংগিরচর খায়রুলের বাজার,আনন্দ বাজার,জনতা বাজার,আমলিতলা বাজার। নামে ছয়টি বাজার সৃষ্টি হয়েছে ।
শেরপুর ইউনিয়নে কামারিয়া বাজার,লংগারপাড় বাজার, মাদারিনগর মোড় মার্কেট নামে তিনটি বাজার সৃষ্টি হয়েছে ।
খারুয়া ইউনিয়নে একতা বাজার,জামতলা বাজার,গাবতলি বাজার নামে তিনটি বাজার সৃষ্টি হয়েছে ।
জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে বাড়ঘড়িয়া নতুন বাজার, বরিল্যা বাজার, মনপাশা বাজার নামে রয়েছে তিনটি বাজার সৃষ্টি হয়েছে ।
পৌরসভায় কাটলিপাড়া মডেল বাজার,বালিয়াপাড়া রাগের বাজার,চন্ডিপাশা মোড়ের বাজার নামে তিনটি  বাজার সৃষ্টি হয়েছে।
এসব বাজার তৈরিতে  সব মিলিয়ে ৭-৮ হাজার একর জমি ব্যবহৃত হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগেই ২-৩ ফসলি ধান ও সবজি চাষের  জমি এর মধ্যে সামান্য  কিছু রয়েছে অকৃষি জমি।
এছাড়া পুরাতন একাধিক বাজার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে , তার মধ্যে পুরাতন পাঁচানি বাজার (সরকারি ভূমিতে২-৩ একর), আলমের বাজার, কালা সরকারের বাজার, মহেশখুড়া বঙ্গবন্ধু বাজার,  এসব বাজারে পাঁচ -ছয়  একরের মতো সম্পত্তি অব্যহৃত  অবস্থায় পড়ে রয়েছে।তার মধ্যে কোনটা সরকারি ভূমিতে কোনটা ব্যাক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে। কোনটায় আবার কিছু কিছু দোকান পাটও আছে।
এইতো বছর দুইয়েক পূর্বে ১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত খামারগাঁও পরিষদ বাজার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে   দুই শতক জমিতে দুটি দোকান রয়েছে  মজিবুর রহমান নামে একজনের,তিনি বলেন এই মুহূর্তে এই বাজারে তেমন কোন উপকার নেই, বিকালে কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস  বেচাকেনা হয়। বেশি কিছু প্রয়োজন হলে পাশেই চন্ডিপাশা বাজার বা নান্দাইল সদর বাজারে চলে যায়। যদি ভবিষ্যৎ’এ এই বাজারের কোন উন্নতি হয়। তখন লাভবান হওয়া যাবে।
এবিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে, চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন ভূইয়া জানান,বাজার গুলো সৃষ্টি হওয়াতে মানুষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, স্থানীয়রা সহজেই তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সহজেই বাজার জাত করতে পারছে। মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্যাদী হাতের নাগালে পাচ্ছে।
নান্দাইল কৃষি অফিসার আনিসুজ্জামান এবিষয়ে বলেন, সারাদেশে প্রতিবছর ১% করে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। নান্দাইলও এই হিসাবের বাইরে নয়। এই সমস্ত বাজার সৃষ্টিতে একদিক থেকে যেমন ফসলি জমি কমছে তেমনি কৃষক তার ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারছে। ভালো মন্দ দুটি দিকেই আছে।
সরজমিনে একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বললে প্রতিবেদককে তারা বলেন বাজার গুলো নির্দিষ্ট দুরত্বে  পতিত জমিতে তৈরি করা দরকার। নান্দাইলে অনেক বাজার সৃষ্টি হয়েছে যেগুলো তেমন কোন প্রয়োজন ছিল না।এই সমস্ত বাজারে অনেক দোকান পাট  তৈরি করা হলেও  সারাদিন কোন লোকসমাগম নেই বেচাকেনাও নেই। যেসব বাজারে সন্ধ্যারপর কিছু লোকসমাগম হয় সেখানে চা দোখান গুলোতে সিনামা হলের মতো চলচিত্র সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়।সেখানে উঠতি বয়সের শিশু কিশোররাও জমিয়ে আড্ডা দেয়। এতে করে সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হচ্ছে।
উল্লেখিত বাজার /হাট সমূহের মধ্যে ৫ টি রয়েছে সরকারি ডাকের তালিকা ভূক্ত। বাকি ৫০ টি এখনো সরকারের ইজারা আদায়ের লক্ষ্য তালিকা ভূক্ত হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উল্লেখিত পাঁচটি সহ নতুন পুরাতন মিলিয়ে  উপজেলায় মোট ৪৩ টি হাট/বাজার উপজেলা প্রশাসন ইজারা আদায়ের লক্ষ্য প্রতি বছর ডাক দিয়ে থাকে।
সব মিলিয়ে নান্দাইল উপজেলায় ৯৩ টি হাট /বাজার রয়েছে।
এবিষয়ে মানবাধিকার সংগঠক এনামুল হক বাবুল বলেন  এসব বাজার তৈরিতে নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যাতে যত্রতত্র  এভাবে ফসলি জমি নষ্ট না হয়।যে বাজার গুলো তৈরি হয়েছে এবং রাজস্ব খাতের বাইরে রয়েছে সেগুলো রাজস্ব খাতে যুক্ত করার দাবি জানান।
এবিষয়ে নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মাহফুজুল হক জানান,আমি করোনাকালীন সময়ে মাত্র কিছুদিন হলো যোগদান করেছি। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ইজারা উপযুক্ত সকল বাজার তালিকা ভূক্ত করে ডাকের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
মুবার্তা/এস/ই

ফেসবুকে লাইক দিন